দুধ নালী বন্ধ হয়ে যাওয়া তখনই হয়, যখন জ্বালাভাব (কিংবা ফুলে যাওয়ার) কারণে স্তনে থাকা দুধের নালী সংকীর্ণ হয়ে যায়, যার ফলে দুধের ফ্লো কমে যায়। স্তনের দুধে থাকা চর্বির দলা একসাথে জমে গিয়ে সরু দুধনালীতে আটকে থাকা একটি প্লাগ তৈরি করতে পারে। এটি স্তনে ছোট গুটি, ব্যথাযুক্ত গিঁট বা শক্ত অংশের মতো অনুভূত হতে পারে। আপনার জ্বর হবে না কিংবা আপনি অসুস্থ বলে মনে হবে না। তবে কখনও কখনও নালী সংকীর্ণ হয়ে গেলে তা থেকে পরিস্থিতির অবনতি হয়ে সংক্রমণ পর্যন্ত হতে পারে।

যখন আপনার নালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার সমস্যা ছিল না, তখনকার স্বাভাবিক রেট অনুযায়ী স্তন পান করানো বা পাম্প করা চালিয়ে যান। অতি ঘন ঘন পাম্পিং বা স্তন পান করালে নালী বন্ধ হওয়ার সমস্যার অবনতি হতে পারে।

নালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার সমস্যার একটু সুরাহা করতে এবং দুধের ফ্লো আরও ভালো করার জন্য বুকের দুধ খাওয়ানোর আগে এবং খাওয়ানোর সময় হালকা মেসেজ করুন। আঙুল ব্যবহার করে, আটকে থাকা অংশের সামনে থেকে শুরু করুন এবং হালকা করে বৃত্তাকারভাবে মালিশ করতে করতে স্তনবৃন্তের দিকে এগিয়ে যান। শক্ত করে চিমটি কাটবেন না, মোচড়াবেন না বা মাসাজ করবেন না – এটি থেকে জ্বালাভাব তৈরি হতে পারে।

যেদিকের স্তনে নালী বন্ধ হয়ে গিয়েছে বলে আপনার মনে হচ্ছে, সেই দিকের স্তন দিয়ে দুধ পান করানো শুরু করুন। শুরুতেই আপনার শিশু জোরালোভাবে চুষলে তাতে নালীর বন্ধ হয়ে যাওয়া কিছুটা আলগা হয়ে যায় এবং দুধ ভালোভাবে বেরোয়।

দুধ পান করানোর নানা পজিশন পরখ করে দেখুন। পজিশন বদলালে স্তনের বিভিন্ন জায়গায় চোষা বদলে যেতে পারে।

ব্যথা এবং ফুলে যাওয়া হ্রাস করতে বরফ বা কোল্ড প্যাক্স লাগান। দিনে একাধিকবার এক এক বারে 10 থেকে 15 মিনিট ধরে কোল্ড প্যাক ব্যবহার করুন। আপনার স্তন এবং আইস প্যাকের মাঝে পাতলা কাপড় রেখে আপনার ত্বক রক্ষা করুন।

পর্যাপ্ত পরিমাণে জল/পানি খান এবং যতটা সম্ভব বিশ্রাম নিন।

ভালোভাবে ফিট করা, সহায়ক ব্রা পরুন যা আপনার স্তনের উপর চাপ তৈরি করে না।

দুধ খাওয়ানোর আগে সতর্কভাবে উষ্ণ সেঁক ব্যবহার করুন — কারণ অল্প সময়ের (প্রায় 5 থেকে 10 মিনিট) উষ্ণতা দুধের প্রবাহ বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। তবে যদি স্তনে ইতিমধ্যেই প্রদাহ থাকে, তাহলে সেঁক দেওয়া এড়িয়ে চলুন, কারণ এতে ফোলা আরও বেড়ে যেতে পারে।

ব্যথা এবং ফুলে যাওয়ার সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে অ্যাসিটামিনোফেন (Tylenol) বা আইবুপ্রোফেন (Motrin) এর মতো ওষুধের ব্যাপারে আপনার হেলথকেয়ার প্রোভাইডারকে জিজ্ঞাসা করুন। লেসিথিন সাপ্লিমেন্ট দিয়ে নালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার সমস্যার চিকিৎসা করা যায় ও সমস্যাটি প্রতিরোধ করা যায়। আপনার জন্য সবচেয়ে নিরাপদ বিকল্পের ব্যাপারে আপনার চিকিৎসককে জিজ্ঞাসা করুন।
যদি 24 ঘণ্টার মধ্যে নালীর বন্ধ হয়ে যাওয়ার সমস্যার সমাধান না হয় বা আকারে ছোট না হয়, তাহলে দুগ্ধপান সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ বা হেলথকেয়ার প্রোভাইডারের থেকে সাহায্য চান। বন্ধ নালী থেকে অনেক সময় স্তনের সংক্রমণ হতে পারে, যাকে ম্যাস্টাইটিস বলা হয়, যেটির চিকিৎসা করার প্রয়োজন আছে। ম্যাস্টাইটিসের ব্যাপারে আরও জানুন।